Header Ads

ইস্তিগফারের আমল কতবার পড়তে হয়? পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা, ফজিলত, উপকারিতা ও সুন্নত আমল

ভূমিকা:

ইস্তিগফার—একটি সরল অথচ অত্যন্ত শক্তিশালী আমল, যা একজন মুমিনের জীবনে শান্তি, বরকত ও রহমতের দরজা খুলে দেয়। আমরা প্রতিদিন নানা ভুল-ত্রুটির মধ্যে জীবন যাপন করি; কখনো ইচ্ছাকৃত, আবার কখনো অনিচ্ছাকৃতভাবে গুনাহ হয়ে যায়। এসব গুনাহ থেকে মুক্তি পাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো আন্তরিক তাওবা এবং নিয়মিত ইস্তিগফার করা।

ইস্তিগফারের আমল কতবার পড়তে হয়—ইসলামিক যিকির ও তাওবার গুরুত্ব”


ইসলামে ইস্তিগফারের গুরুত্ব এতটাই যে কোরআনে বিভিন্ন স্থানে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের ক্ষমা চাইতে নির্দেশ দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ ﷺ নিজেও প্রতিদিন বহুবার ইস্তিগফার করতেন, যদিও তাঁর কোনো গুনাহ ছিল না। তাই মুসলমানদের জন্য এটি শুধু একবার বলা কোনো বাক্য নয়—বরং আল্লাহর সাথে সম্পর্ক মজবুত করার বিশেষ এক রুহানি চর্চা।

ইস্তিগফারের আমল কতবার পড়তে হয় – গভীর ব্যাখ্যা, فضائل, উপকারিতা ও আমল পদ্ধতি

ইস্তিগফার—একটি ছোট শব্দ হলেও এর গুরুত্ব অশেষ। এটি এমন একটি আমল, যা শুধু পাপ মোচনই করে না, বরং জীবনের দুঃখ-কষ্ট, সংকট, রোগ-বালাই থেকে মুক্তির দরজা খুলে দেয়। আল্লাহ তাআলা কোরআনে বহুবার ক্ষমা প্রার্থনার গুরুত্ব উল্লেখ করেছেন। রাসুলুল্লাহ, এর জীবনেও ইস্তিগফার ছিল নিত্যদিনের অভ্যাস।এখানে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব— ইস্তিগফারের আমল কতবার পড়তে হয়, এর ফজিলত, উপকারিতা, সঠিক নিয়ম, কোন সময়ে বেশি প্রভাবশালী, দৈনিক রুটিন, এবং শেষে উপসংহার ও প্রশ্ন–উত্তর বিভাগ।


ইস্তিগফার কী?

ইস্তিগফার শব্দটি আরবি “غفر” (গাফার) ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ ঢেকে দেওয়া, ক্ষমা করা, রক্ষা করা। ইস্তিগফার মানে হলো আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং তাঁর রহমতের আশ্রয় চাওয়া।

সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ইস্তিগফারের বাক্য হলো:


أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ

অর্থ: “আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাই।”

এ ছাড়াও "সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার" নামে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দোয়া রয়েছে।

বিশ্বস্ত সোর্স: https://sunnah.com


ইস্তিগফারের উপকারিতা:

ইস্তিগফারের উপকারিতা এতটাই বিস্তৃত যে আল্লাহ তাআলা স্বয়ং আমাদের বলেছেন—

“তোমরা তোমাদের প্রভুর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো, তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল।”

— সূরা নূহ: ১০

ইস্তিগফারের প্রধান কিছু উপকারিতা:


১।পাপ মোচন

২। রিজিক বৃদ্ধি

৩। সমস্যা ও বিপদ থেকে মুক্তি

৪।  দুঃশ্চিন্তা দূর হয়

৫। বৃষ্টি প্রাপ্তি ও জমিনের বরকত বৃদ্ধি

৬। আল্লাহর রহমত লাভ

৭। হৃদয়কে পরিষ্কার করে

৮।  দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি হয়


ইস্তিগফারের আমল কতবার পড়তে হয়?


এটি সবচেয়ে বেশি করা প্রশ্নগুলোর একটি। ইসলামে ইস্তিগফারের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বাধ্যতামূলক সংখ্যা নেই। কিন্তু বিভিন্ন হাদিসে কয়েকটি সংখ্যা উল্লেখ আছে, যা আমাদের অভ্যাসকে সুন্দরভাবে সাজাতে সহায়তা করে।

রাসুলুল্লাহ ﷺ প্রতিদিন কতবার ইস্তিগফার করতেন?

হাদিসে এসেছে—

“আমি প্রতিদিন সত্তরবার (৭০) এরও বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই।”

— সহিহ বুখারি

অন্য এক বর্ণনায় এসেছে—

“আমি প্রতিদিন একশত (১০০) বার ইস্তিগফার করি।”

— সহিহ মুসলিম

এখান থেকে বোঝা যায়:

ইস্তিগফারের সর্বোত্তম সংখ্যা হলো ১০০ বার।

তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়। আপনি ১০ বার, ৫০ বার, ২০০ বার—যত ইচ্ছা পড়তে পারেন।

সাধারণ সুন্নতি আমল

সকালে ১০০ বার – “أستغفر الله”

রাতে ১০০ বার – “أستغفر الله”

ফজর থেকে এশা পর্যন্ত যে কোনো সময় পড়া যায়।

সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার প্রতিদিন ২ বার সুন্নত

সকাল ও সন্ধ্যায় (আযকার হিসেবে) পড়ার নির্দেশনা এসেছে।বিশ্বস্ত রেফারেন্স: https://sunnah.com


ইস্তিগফার কতবার পড়লে দোয়া কবুল হয়?


দোয়া শুধু সংখ্যার ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং নিয়ত, মনোযোগ, ও তাওবার আন্তরিকতার ওপর নির্ভরশীল। তবে আলেমরা বলেন—

প্রতিদিন অন্তত ১০০ বার ইস্তিগফারকে অভ্যাস বানালে

আল্লাহর রহমত দ্রুত নাযিল হয়।

এটি পরীক্ষিত আমল। বহু মুসলিম ভাই-বোন ইস্তিগফারকে রুটিনে আনার পর জীবনের অনেক কঠিন সংকট থেকে মুক্তি পেয়েছে।


ইস্তিগফারের বিভিন্ন ধরন ও যিকিরসমূহ:

ইস্তিগফার শুধু “আস্তাগফিরুল্লাহ” বলা নয়; তা বিভিন্নভাবে করা যায়—

১) আস্তাগফিরুল্লাহ – أستغفر الله

সবচেয়ে সহজ, ছোট ও শক্তিশালী যিকির।


২)  সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার

অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ দোয়া।

৩) رَبِّ اغْفِرْ لِي وَتُبْ عَلَيَّ

নামাযে রুকু-সিজদার মাঝে পড়া যায়।

৪) أستغفر الله العظيم الذي لا إله إلا هو الحي القيوم وأتوب إليه

হাদিসে এসেছে: যে এ দোয়া পড়ে তার গুনাহ মাফ হয়ে যায়। রেফারেন্স (হাদিস): https://sunnah.com


ইস্তেগফার কখন পড়তে হয়?


১)  তাহাজ্জুদ এর শেষ তৃতীয়াংশে

এটি দোয়া কবুলের সেরা সময়।

২) ফজরের আগে-পরের সময়

এই সময়কে বরকতময় বলা হয়েছে।

৩)  গুনাহ করার পর সাথে সাথে

কোনো গুনাহ হলে দেরি না করে ইস্তিগফার করুন।

৪)  নামাজের পর ফরজ নামাজের পর ইস্তিগফার করা সুন্নত।

৫) কষ্ট, দুঃখ, সমস্যা বা রোগে আক্রান্ত অবস্থায় ইস্তিগফার মানসিক শান্তি এনে দেয়।

জীবনের বিভিন্ন সমস্যায় ইস্তিগফারের আমল

ইস্তিগফার শুধু গুনাহ মোচনের জন্য নয়; বরং প্রতিটি সমস্যা সমাধানের একটি আধ্যাত্মিক চাবি।


১.রিজিক বাড়ানোর জন্য কোরআনে এসেছে—

“তোমরা ইস্তিগফার কর; আল্লাহ তোমাদের রিজিক বাড়িয়ে দেবেন।”

— সূরা নূহ: ১২

২. দাম্পত্য কলহ দূর করতে ইস্তিগফার বাড়ালে সংসারে শান্তি আসে।

৩. সন্তানের জন্য দোয়া

ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন—"যার সন্তান চাই, সে যেন ইস্তিগফার বাড়িয়ে দেয়।"

৪. ব্যবসায় বরকত

যারা প্রতিদিন ১০০০ বার ইস্তিগফারের অভ্যাস করেন, তাঁদের রোজগারে অদ্ভুত পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় (আলেমদের অভিজ্ঞতা)।

ইস্তিগফারের বাস্তব উপকারিতা — মানুষের অভিজ্ঞতা থেকে


দোয়া কবুলের ইস্তেগফার:

ইস্তেগফার নিয়ে অনেক সাধারণ মানুষ কিছু উপকারিতা শেয়ার করেছেন।

১) অনেক সাধারণ মানুষ যেমন—

চাকরি পাচ্ছিলেন না → প্রতিদিন ৫০০ বার ইস্তিগফার → ২ মাসের মধ্যে চাকরি


২) সংসারে অশান্তি → স্বামী-স্ত্রী দুজনই ১০০ বার ইস্তিগফার → সম্পর্কের উন্নতি


৩) ব্যবসায় ক্ষতি → প্রতিদিন ১০০০ বার ইস্তিগফার → বিক্রি বৃদ্ধি


৪) সন্তানহীনতা → দম্পতি প্রতিদিন ২০০ বার → বছর শেষে সুসংবাদ

এগুলো অবশ্যই আল্লাহর রহমত; ইস্তিগফার শুধু তার দরজা খুলে দেয়।


দৈনিক ইস্তিগফারের পড়ার তালিকাসমূহ:

ইস্তেফাক করা মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত ও আমল।

১. সকাল : ঘুম থেকে ওঠার পর ১০ বার। ফজর নামাজের পর ৫০–১০০ বার

২. কাজের সময়: যেকোনো সময় যাতায়াতের মাঝে ৫০ বার

৩. বিকেল: আসর নামাজের পর ৫০ বার। সন্ধ্যায় সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার

৪. ঘুমানোর আগে:  ১০০ বার “আস্তাগফিরুল্লাহ”

এইভাবে দিনের বিভিন্ন সময় ভাগ করে নিলে ৩০০–৫০০ বার সহজেই পড়া যায়।


ইস্তিগফারের প্রকৃত আদব ও নিয়ম

আন্তরিকভাবে পড়া

গুনাহ ছাড়ার দৃঢ় সিদ্ধান্ত

কেবল ঠোঁট দিয়ে নয়, হৃদয় দিয়ে বলা

গুনাহের জন্য লজ্জিত হওয়া

আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করা

কারো হক নষ্ট করলে তা ফিরিয়ে দেওয়া


ইস্তিগফার সম্পর্কিত ভুল ধারণা:


১) নির্দিষ্ট সংখ্যা বাধ্যতামূলক

ইসলামে নির্দিষ্ট সংখ্যা বাধ্যতামূলক নয়। সংখ্যা নির্দিষ্ট করা শুধু অভ্যাস রক্ষার জন্য।


২)  শুধু মুখে ইস্তিগফার করলেই চলবে।আসল তাওবা হলো গুনাহ ছেড়ে দেওয়া।

৩) পাপ করে আবার ইস্তিগফার করলে লাভ নেই। না, বারবার তাওবা করলেও আল্লাহ ক্ষমা করেন। আল্লাহ গফুরুর রহীম।


প্রশ্ন–উত্তর (FAQ)


প্রশ্ন ১: ইস্তিগফার কি ফরজ?

 না, ফরজ নয়; তবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুন্নত।


প্রশ্ন ২: ইস্তিগফার কোন ভাষায় পড়লে বেশি সওয়াব?

 আরবিতে পড়া উত্তম, তবে নিজের ভাষায় ক্ষমা চাইলেও আল্লাহ গ্রহণ করেন।


প্রশ্ন ৩: ইস্তিগফার কি মাসিকের সময় পড়া যাবে?

হ্যাঁ, অবশ্যই পারবেন।


প্রশ্ন ৪: নির্দিষ্ট সমস্যার জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যা কি আছে?

 না, নির্দিষ্ট সংখ্যা বাধ্যতামূলক নয়। তবে অভ্যাস রাখতে আলেমরা ১০০, ৩০০ বা ১০০০ বার পড়তে বলেন।


প্রশ্ন ৫: ইস্তিগফারের দোয়া শুনে কি সওয়াব পাওয়া যায়?

 যিকির শুনে সওয়াব পাওয়া যায়, তবে পড়লে বেশি সওয়াব।


প্রশ্ন ৬: আমি কি হাজারবার ইস্তিগফার পড়তে পারি?

 অবশ্যই পারেন। বেশি পড়লে বরকত বেশি।


উপসংহার:

ইস্তিগফার হলো এমন একটি রুহানি আমল যা মানুষকে ভিতর থেকে বদলে দেয়। এটি পাপ থেকে মুক্তি দেয়, মনকে পরিশুদ্ধ করে, জীবনে বরকত আনে এবং আল্লাহর সন্যিধ্যতা বাড়ায়। “ইস্তিগফারের আমল কতবার পড়তে হয়”— আসলে এর কোনো বাধ্যতামূলক সংখ্যা নেই; তবে প্রতিদিন অন্তত ১০০ বার পড়া সুন্নত।আপনি যতবার পারবেন, ততবার ইস্তিগফার করুন। আল্লাহর রহমতের দরজা সবসময় খোলা—আমরা শুধু ডাকে সাড়া দিব।

 আরোও আমল সম্পর্কে পড়তে এখানে 





কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.